Posts

Showing posts from September, 2026

তরুণ তরুণী — অভিমন্যু আর ইফিগেনিয়ার এক অলৌকিক সংলাপ (নতুন বাংলা শ্রুতিনাটক)

Image
  দুই ভিন্ন পুরাণ, একটাই পরিণতি কল্পনা করুন — একটা নির্জন, রহস্যময় সমুদ্রতট। সেখানে দাঁড়িয়ে দুজন তরুণ-তরুণী। কেউ জানে না তারা কীভাবে এখানে এলো, কেনই বা এলো। ধীরে ধীরে, কথায় কথায়, উঠে আসে এক ভয়ংকর সত্য — তারা দুজনেই মৃত। আর তাদের মৃত্যুর গল্প যেন আশ্চর্যভাবে একে অপরের প্রতিচ্ছবি। একজন অভিমন্যু — মহাভারতের সেই কিশোর যোদ্ধা, যে অন্যদের যুদ্ধের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে চক্রব্যূহে প্রাণ দিয়েছিল। আরেকজন ইফিগেনিয়া — গ্রিক পুরাণের রাজকন্যা, যাকে তাঁর নিজের পিতা আগামেমনন ট্রয় যুদ্ধযাত্রার আগে দেবী আর্তেমিসের উদ্দেশ্যে বলি দিয়েছিলেন। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সভ্যতা, দুটি ভিন্ন মহাকাব্য থেকে উঠে আসা এই দুই চরিত্র যখন একে অপরের গল্প শোনে, তখন বোঝা যায় — কর্তব্য, আনুগত্য আর আত্মত্যাগের নামে তরুণ প্রাণ বলি হওয়ার গল্প বোধহয় সব সংস্কৃতিতেই একরকম। নাটক ও কণ্ঠাভিনয় বাংলা সাহিত্যিক শিশির কুমার দাসের লেখা এই অনবদ্য নাটক অবলম্বনে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ অডিও নাট্য "তরুণ তরুণী" । 🎙️ কণ্ঠাভিনয়েঃ ইফিগেনিয়া — শাঁওলী মজুমদার অভিমন্যু — কৌশিক মজুমদার সম্পূর্ণ নাটকটি শুনুন নিচে...

ট্রিগার — একটি রুদ্ধশ্বাস গোয়েন্দা গল্প (অডিও) | কাকলি ঘোষ

Image
 রুফটপ ক্যাফেতে বসে হট চকলেটের কাপে চুমুক দিতে দিতেই হঠাৎ দেখা হয়ে যায় পুরনো পরিচিত, বিখ্যাত পরিচালক পল্লব চক্রবর্তীর সঙ্গে। কিন্তু তাঁর মুখে ছুটির আমেজ নেই— বরং স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। কারণটা জানা গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই। শহরের কাছেই একটি সিনেমার শুটিং চলছিল, আর সেই শুটিং-এর সেটেই ঘটে গেছে এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা— বা হয়তো দুর্ঘটনা নয়। দৃশ্যের প্রয়োজনে নায়কের ছোঁড়া 'নকল' গুলিতেই আচমকা প্রাণ হারিয়েছেন ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা রাকেশ শর্মা। প্রশ্ন একটাই— একটা খেলনা বন্দুক দিয়ে আসল খুন হয় কী করে? পুলিশ পুরোপুরি দিশেহারা। প্রযোজক কমলজিৎ চৌধুরী উদ্বিগ্ন— শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়, আবার নিজের প্রতিষ্ঠার প্রশ্নেও। আর তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসতে থাকে একের পর এক সন্দেহভাজন— মৃতের প্রতি ঈর্ষাতুর এক সহ-অভিনেত্রী, সদ্য চাকরি হারানো, প্রতিহিংসাপরায়ণ এক প্রাক্তন কর্মচারী, আর কম্বলে মুড়ি দেওয়া সেই রহস্যময় দেহাতী লোকটা, যার গা থেকে ভুরভুর করছে দামী বিদেশী পারফিউমের গন্ধ— যা তার বেশভূষার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। শখের গোয়েন্দা ঊষ্ণীষ কি পারবে এই জটিল রহস্যের জট...

গিরিশচন্দ্র ঘোষ ও বিনোদিনী দাসী: বাংলা থিয়েটারের এক ভুলে যাওয়া অধ্যায়

Image
 উনিশ শতকের কলকাতা। বাংলা থিয়েটারের এক স্বর্ণযুগ, যখন মঞ্চ ছিল সমাজের আয়না, আর অভিনয় ছিল এক গভীর শিল্পসাধনা। এই যুগের অন্যতম প্রধান দুই চরিত্র — নাট্যাচার্য গিরিশচন্দ্র ঘোষ এবং তাঁর প্রতিভাবান শিষ্যা বিনোদিনী দাসী। গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন বাংলা থিয়েটারের এক দিকপাল — নাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা এবং শিক্ষক হিসেবে তিনি বাংলা মঞ্চকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই উঠে এসেছিলেন বিনোদিনী দাসী — এক অসাধারণ প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী, যাঁর অভিনয়ে জীবন্ত হয়ে উঠত চৈতন্যলীলা থেকে শুরু করে বহু কালজয়ী চরিত্র। কিন্তু এই গুরু-শিষ্যার সম্পর্ক শুধু শিল্পের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল না। এতে জড়িয়ে ছিল শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা, অভিমান আর এক গভীর, অপ্রকাশিত আবেগ। মঞ্চে বিনোদিনী যতই অতুলনীয় হোন না কেন, বাস্তব জীবনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল উপেক্ষা আর সামাজিক অবহেলা। ইতিহাসে সুপরিচিত একটি ঘটনা — যে থিয়েটার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম, সেই থিয়েটারের নামকরণেও তিনি তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতিটুকু পাননি। "বিনোদিনী থিয়েটার" নামে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথা ছিল, তা পরিচিত হয় "স্টার থিয়েটার...